সর্বশেষ

সারাদেশ

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের জন্য যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, আমদানি ব্যয় কমাতে ফল ও খেজুরের শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণের সুদহার কমানো এবং পণ্য পরিবহন ও খালাসের প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার আয়োজিত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাইপলাইনে রয়েছে। এসব পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। রমজানসহ সারা বছর পণ্যের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফলের প্রকৃত শুল্কহার ১২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেজুরের শুল্ক কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

ফলের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের অভিযানের পর ফলের দাম অনেকটাই কমেছে।

রমজান কিংবা অন্য কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অথবা অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সারা বছর তদারকি কার্যক্রম চলবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের লজিস্টিকস ব্যয় ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি, পণ্য খালাস ও পরিবহন প্রক্রিয়া সহজ করে সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) আধুনিকায়নের উদ্যোগ চলছে। ঘরে বসে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ও আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ন্যূনতম মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত চাপ ঠেকাতে অন্যান্য আমদানি পণ্যের শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএ সালাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমান, সাবেক পরিচালক এসএম আবু তৈয়বসহ অনেকে।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০