রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের আটক করল দিল্লি পুলিশ
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী দলের নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে অবস্থান কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার রাতে তাঁদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাহুল গান্ধীসহ অন্য বিরোধী নেতাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের বাসে তুলে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’-এর উদ্দেশে মিছিল বের করেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া ওই মিছিলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। মিছিল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা সেখানে অবস্থান নেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় তাঁদের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে। অথচ সেখানে তাঁদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
মঙ্গলবার দুপুরেও রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কিছু সময়ের জন্য পুলিশ একটি বাসে উঠিয়েছিল। পরে তাঁরা বাস থেকে নেমে আসেন। সন্ধ্যায় আবার তাঁদের আটক করা হয়।
কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা এক-দুই দিনের মধ্যে সাক্ষাতের আশ্বাস দিলে রাহুল গান্ধী অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার শর্ত দিয়েছে কংগ্রেস।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তবে জোটের গুরুত্বপূর্ণ দুই শরিক দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (এএপি) মিছিলে অংশ নেয়নি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচার চালানো হবে। এ সময়ে সাইকেল ও মোটরসাইকেল মিছিলের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচিও রয়েছে।
২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ পর্যায়ে জনসভা করার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করার ঘোষণাও দিয়েছে কংগ্রেস।
এ ছাড়া ২৫ ও ২৬ নভেম্বর দিল্লির আশপাশের ছয়টি এলাকা থেকে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় পৃথক মিছিল বের করা হবে। ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে মিছিলগুলো দিল্লিতে এসে একত্র হওয়ার কথা রয়েছে।
কংগ্রেস জানিয়েছে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার কথাও জানিয়েছে দলটি।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও একটি মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে রাজি হয়নি আদালত। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন সব সময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে—এমন পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন আদালত। মামলাটির শুনানি এখনো চলমান।
১০৭ বার পড়া হয়েছে