সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

কাল ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:২৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ৩০ বছর আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন গভর্নর বিল লি। আগামীকাল বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। তা হলে প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

ক্রিস্টা পাইকের বয়স এখন ৫০ বছর। ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি তাঁর ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক তাডারিল শিপকে সঙ্গে নিয়ে সহপাঠী কলিন স্লেমোরকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং অভিযুক্তদের অল্প বয়সের কারণে ঘটনাটি তখন আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরের বছর আদালতে ক্রিস্টা পাইককে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম উঠে আসে। সাজা ঘোষণার পর জানা যায়, শৈশবে তিনি চরম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঘনিয়ে আসার পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ (এসিএলইউ) মানবাধিকার সংগঠনগুলো টেনেসির গভর্নরের কাছে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানায়।

তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন গভর্নর বিল লি। এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টা গেইল পাইকের প্রাণভিক্ষার আবেদন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। মামলার সার্বিক দিক পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর টেনেসির আদালতের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই।’

গভর্নরের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা। এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ১৮ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি, যিনি শৈশবে তীব্র ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর দায় কতটুকু—এ বিষয়ে কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে রাষ্ট্র সরাসরি উপেক্ষা করেছে।

আইনজীবীরা আরও বলেন, শৈশবে যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টাকে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, মানসিকভাবে অসুস্থ সেই তরুণীর সঙ্গে বর্তমানের ক্রিস্টা পাইকের বড় পার্থক্য রয়েছে। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা এখন অনুতপ্ত এবং নিজের অপরাধের মাত্রা বুঝতে পারেন। কারাগারে তিনি অন্য নারী বন্দীদেরও সহযোগিতা করছেন।

মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন নিয়ে ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সহকারী ফেডারেল ডিফেন্ডার স্টিফেন ফেরেল বলেন, ক্রিস্টা পাইক খুব ছোটবেলা থেকেই যৌন নির্যাতনের শিকার। ১১ ও ১৭ বছর বয়সে তিনি ধর্ষণের শিকার হন। তবে বিচার চলাকালে তাঁর তৎকালীন আইনজীবীরা এই ভয়াবহ অতীতের বিষয়টি জুরিদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হন।

প্রাণভিক্ষার আবেদনে ক্রিস্টা পাইক লেখেন, ‘আমি তখন মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলাম। ভুলটি উপলব্ধি করতে আমার বহু বছর লেগেছে। আমি কারও সন্তান, বোন ও বন্ধুকে হত্যা করেছি। আজ ভাবলেই আমার শরীর শিউরে ওঠে—কীভাবে আমি এমন একটি অপরাধ করতে পেরেছি।’

আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কের বিকাশ নিয়ে অনেক গবেষণা রয়েছে। অথচ ক্রিস্টা পাইকের প্রেমিক তাডারিল শিপকে বয়সের কারণে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত তৃতীয় এক তরুণ শুধু সহযোগিতার কথা স্বীকার করায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

নিহত কলিন স্লেমোরের মা মে মার্টিনেজ জানান, তাঁর মেয়ে স্পেশাল অলিম্পিকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন এবং স্কেটিং ভালোবাসতেন। কম্পিউটার নিয়ে কাজ করারও স্বপ্ন ছিল তাঁর।

টেনেসিতে সর্বশেষ কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৮২০ সালে। একটি অপরাধে সহায়তার অভিযোগে মার্টিন ইভ নামের ওই নারীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে অ্যাম্বার ম্যাকলাফলিন নামে একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ছাড়া ২০২১ সালে ফেডারেল সরকার লিসা মন্টগোমারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, যা ছিল সাত দশকের মধ্যে প্রথম। এর আগে ২০১৫ সালে জর্জিয়ায় এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০