যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হলে প্রস্তুত ইরান, কূটনীতির পথও খোলা
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান। তিনি বলেছেন, নতুন কোনো আগ্রাসনের মুখে ইরান পিছু হটবে না। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি এসব কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় থাকবে। পরিস্থিতি প্রলয়ংকরী যুদ্ধে গড়ালেও ইরান পিছু হটবে না। একই সঙ্গে কূটনীতির জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় ইরান। প্রস্তাবে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ করা ইরানের সম্পদ ও অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল বিক্রির সুযোগ চাওয়া হয়েছে। আরাগচি বলেন, এসব শর্ত নতুন কিছু নয়। জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতায়ও বিষয়গুলো ছিল।
তবে জুনের ওই সমঝোতা কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় ভেঙে যায়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগের সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন আরাগচি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে আরাগচির দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতির কোনো সুযোগ নষ্ট করতে চায় না ইরান। শান্তির জন্য কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে নেই। তাদের কাছে জাতীয় স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছিলেন, কয়েকটি কারণে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের জব্দ করা বিপুল অর্থ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না।
ওয়াল্টজ আরও বলেন, ইরান অতীতের সমঝোতা লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়েছে। এ কারণে দেশটির সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা কমেছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে ধ্বংস করার পথ বেছে নেবেন, নাকি দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে যাবেন—তা তিনি এখনো বিবেচনা করছেন। তিনি আরও বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।
১১০ বার পড়া হয়েছে