দেশপ্রেমের আরেক নাম দূরদৃষ্টি
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত এক বছর পর্যবেক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছেন ফারূক মাহমূদ। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে আবেগের পরিবর্তে রাষ্ট্রের স্বার্থ, সামরিক সক্ষমতা, কূটনীতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ এখনই যুক্ত না হয়ে অন্তত এক বছর পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিলাম। এজন্য কেউ কেউ আমাকে ভারতের দালাল বলার চেষ্টা করেছিলেন। অথচ আমার প্রশ্ন ছিল একটাই- আবেগের আগে কি রাষ্ট্রের স্বার্থকে দেখা উচিত নয়?
আজ সৌদি আরবে হুথিদের হামলা হচ্ছে। অথচ মক্কা প্যাক্টের বাস্তব সামরিক প্রতিক্রিয়া এখনও পরীক্ষার পর্যায়ে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান, তুরষ্ক কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
একই সময়ে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সাত আরব দেশের সামরিক প্রধানদের গোপন বৈঠকের খবর এসেছে। আলোচনায় ছিল ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
এই অগ্নিগর্ভ ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের দায়িত্ব কোনো পক্ষের ছায়ায় দাঁড়ানো নয়। নিজের সক্ষমতা, কূটনীতি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে পথ নির্বাচন করা।
এজন্য তুরস্ক, পাকিস্তান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দেশীয় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে পারে।
আমি তাই বলেছিলাম, তাড়াহুড়ো না করে এক বছর অপেক্ষা করা হোক।
কারণ রাষ্ট্রনীতি হুজুগে চলেনা। ইতিহাসের দীর্ঘ ছায়া বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ আমরাও ভৌগলিকভাবে বৈশ্বিক যুদ্ধ মঞ্চ থেকে খুব বেশি দূরে নেই।
তাই বারবার বলি, দেশপ্রেম মানে যুদ্ধের আগে কেবল রণহুংকার নয়। যুদ্ধের ময়দানে পতাকা ওড়ানোও নয়। প্রয়োজন হলে যুদ্ধ এড়ানোর মতো প্রজ্ঞা অর্জন করাও দেশপ্রেম।
১২৯ বার পড়া হয়েছে