জামালপুরে নিয়োগপত্রের দাবিতে ৫১ শিক্ষকের আমরণ অনশন
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ৫১ জন নিয়োগপ্রত্যাশী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের দাবি, জামালপুর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে গতকাল ২৮ সেপ্টেম্বর একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৮৫ জন নিয়োগপত্র পেলেও বাকি ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত জটিলতা না থাকা এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবারের মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান করে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগপ্রত্যাশী শামীম ইয়াসমীন সুমি বলেন, তাঁর পরিবারে বর্তমানে কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি নেই। তাঁর বাবা বয়স্ক এবং তাঁর কোনো আয় নেই। ছোট ভাই বেকার, ছোট বোন মেডিকেলে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজেরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে।
শামীম ইয়াসমীন বলেন, সংসারের দায়িত্ব নিতে তাঁর একটি চাকরি প্রয়োজন। কিন্তু কেন তাঁকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। নিয়োগপত্র না পেলে তাঁর সামনে আর কোনো পথ থাকবে না বলেও তিনি জানান। কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁর ছোট সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁদের প্রায় আট মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, জামালপুর জেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৩৬ জনের মধ্যে ৫১ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। এর সুনির্দিষ্ট কারণও তাঁদের জানানো হয়নি। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না।
জামালপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সোহেল আলম বলেন, ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় ধাপে বাকি প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে গতকাল বিকেলে মাত্র একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫১ জনকে বাদ রাখা হয়েছে।
সোহেল আলমের ভাষ্য, তাঁদের বাদ রাখার সুস্পষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি। কোনো প্রার্থীর ফৌজদারি মামলা, আইনগত জটিলতা বা কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে তাঁকে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে এমন কোনো জটিলতা না থাকার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, নিয়োগপত্রের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে এবং নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার দাবিতে তাঁরা অনশনে বসেছেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কেউ অবস্থানস্থল ত্যাগ করবেন না বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিয়োগবঞ্চিতরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেওয়ায় অফিসটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। এ সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অফিসে ছিলেন না।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং নিয়োগপ্রত্যাশীদের বিষয়টি নিয়েই কাজ করছেন। তবে কার ক্ষেত্রে কোন ধারায় কী সমস্যা হয়েছে, তা এখনো তিনি জানেন না। তিনি বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় এসেছেন। এ বিষয়ে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে এবং ভালো কিছু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১০৬ বার পড়া হয়েছে