সিলেট ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে কারা, চলছে জোর আলোচনা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণার আভাস পাওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বেড়েছে।
সিলেটের জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টার চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সিলেট ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব। জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যেকোনো সময় নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে—এমন আভাস পাওয়ায় এ আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সিলেটের রাজনৈতিক আড্ডাগুলোতে সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পদপ্রত্যাশী নেতাদের ব্যানার, পোস্টার ও অনুসারীদের শুভেচ্ছা-বার্তা দেখা যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা নিজেদের পছন্দের নেতাদের রাজনৈতিক ত্যাগের নানা দিক তুলে ধরছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজপথে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হওয়া, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা হওয়া এবং কারাগারে থাকার বিষয়গুলো। ফলে নতুন কমিটি ঘিরে সিলেটের ছাত্ররাজনীতিতে একদিকে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
সিলেট ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা পেতে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে ঢাকায় পৌঁছেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা। জেলা ও মহানগর—দুই ইউনিটেই জায়গা পেতে একঝাঁক তরুণ ও সক্রিয় ছাত্রনেতা তৎপর রয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় যেসব নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুস সামাদ লষ্কর মুনিম, রুবেল ইসলাম, আজহার আলী অনিক, আবুল হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মুর্শেদ, হিলাল উদ্দিন শিপু, শহীদুল ইসলাম অপু, জহিরুল ইসলাম আলাল, আফজাল হোসেন, জয়নাল আবেদীন রাহেল, মাহবুব হোসেন, জুনেদ আহমেদ রাফি, তানবীর আহমদ খান, শিহাব উদ্দিন, আকিরুল ইসলাম জিসান, শাহান আল মাহমুদ, জাবেদুর রহমান, মাহমুদুল হাসান সাগর, আবু সাঈদ মো. সাকিব ও আল আমিন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন তরুণ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।
সিলেট ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে নিষ্ক্রিয় কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের নেতাদের পরিবর্তে দলের দুঃসময়ে সক্রিয় থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তাদের ভাষ্য, যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, ব্যারিকেড গড়ে তুলেছেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন।
তৃণমূলের অনেকেই মনে করছেন, বিগত দিনের রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফ্রন্টলাইনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, নতুন কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি। তা না হলে মাঠপর্যায়ে হতাশা তৈরি হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিএনপির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্দিষ্ট কোনো তারিখ চূড়ান্ত না হলেও যেকোনো দিন নতুন নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে।
কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য হিসেবে বিতর্কমুক্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, মেধা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিগত দিনের ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানা গেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিলেট ছাত্রদলের জন্য শক্তিশালী কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর নতুন কমিটির মাধ্যমে সিলেট ছাত্রদলে সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। এখন অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত কারা পাচ্ছেন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে