সুনামগঞ্জে কাচা মিয়া হত্যা মামলা ধামাচাপার অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাউদপাড়া গ্রামে কাচা মিয়া হত্যা মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী পারভেজের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আসামিদের প্রভাব ও চাপের কারণে বাদী কিছু তথ্য গোপন এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করে মামলাটি আপসের মাধ্যমে শেষ করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানাধীন ১ নম্বর বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামে সংঘটিত কাচা মিয়া হত্যা মামলায় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট নম্বর-৬৮) দাখিল করেছে। মামলাটি বর্তমানে দায়রা ১৪৬/২৬ হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এ বিচারাধীন রয়েছে।
তবে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, মামলার বাদী পারভেজ আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত ও বাধ্যবশীভূত হয়ে সত্য গোপনের চেষ্টা করছেন।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বাদী আসামিদের সঙ্গে আঁতাত করে কয়েকজন সাক্ষীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এভাবে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা জানান, মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে আসামিদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে বাধ্যবশীভূত করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। একই সঙ্গে মামলার বাদীও আড়ালে আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মামলাটি আপসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বর্তমান বাদীকে পরিবর্তন করে পরিবারের অন্য কোনো দায়িত্বশীল সদস্যকে বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করে মামলা পরিচালনার দাবি জানান।
একই সঙ্গে চার্জশিটে উল্লেখ করা ১৬ জন সাক্ষীর নিরপেক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে সংশ্লিষ্ট বিচারক ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, অর্থের প্রভাব বা আপসের মাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে দেওয়া উচিত নয়। সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে বাদী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং সব সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল বলেন, মধ্যনগর উপজেলার সাউদপাড়া গ্রামের কাচা মিয়া হত্যা মামলা দায়রা ১৪৬/২৬ হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এ বিচারাধীন। ইতোমধ্যে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের সাক্ষ্যও নেওয়া হবে। মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
১০৭ বার পড়া হয়েছে