সর্বশেষ

সারাদেশ

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় হিলাল উদ্দিন শিপু

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে সিলেট জেলা ছাত্রদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এর মধ্যে বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিলাল উদ্দিন শিপুর নামও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মামলা-হামলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি এ পদের দাবিদার।
হিলাল উদ্দিন শিপু

সিলেট জেলা ছাত্রদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা বেড়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিভিন্ন জায়গায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে কথাবার্তা। সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূলের একটি অংশ হিলাল উদ্দিন শিপুর পক্ষে মত দিচ্ছে।

বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা হিলাল উদ্দিন শিপুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের শুরু স্কুলজীবনে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলয়ের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। শুরু থেকেই জামান গ্রুপের কর্মী হিসেবে রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানান।

সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হন বলে তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য। এসএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ গ্রুপের সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন শিপু ও তাঁর ভাই নিজাম উদ্দিন টিপু। ওই হামলায় শিপুর এক হাত ভেঙে যায়। ভাঙা হাতে প্লাস্টার নিয়েই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

২০১২ সালে বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর সিলেটের বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে শিপুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নেতৃত্বে হরতাল, অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তিনি। ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের দাবিতে গঠিত ‘ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ’-এর কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৪ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

পরে মদন মোহন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন শিপু। সেখানে ছাত্রদলের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার ছাত্রলীগের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হয়েছে বলে তাঁর সহকর্মীদের দাবি। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বাংলা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন।

এরপর সিলেট ল’ কলেজে ভর্তি হন তিনি। ওই সময় কলেজে ছাত্রদলের কমিটি থাকলেও প্রকাশ্য কর্মসূচিতে সংগঠনটির কার্যক্রম সীমিত ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। এ অবস্থায় জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে শিপু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের উদ্যোগ নেন।

বই বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে ল’ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাহিদ সোহান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হোসেন আল-আমিন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান সাগরের নেতৃত্বে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। শিপু ও তাঁর সহযোদ্ধাদের ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দিতে ওই হামলা চালানো হয় বলে তাঁর পক্ষের নেতাকর্মীরা দাবি করেন। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সংগঠিত করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শিপু। পরদিন ‘ল’ কলেজ ছাত্রকল্যাণ পরিষদ’-এর ব্যানারে বই বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়।

বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা ও কারফিউ চলাকালেও সিলেটের রাজপথে শিপুর উপস্থিতি ছিল বলে তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা জানান। ২০২৩ সালের একদফা আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। এ সময় টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও হামলায় তিনি একাধিকবার আহত হন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা জানান শিপু। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি কাজ করছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত রয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে সিলেট-৪ আসনের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কমিটি গঠনের দায়িত্বেও তিনি ছিলেন। এসব এলাকায় প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের প্রত্যাশার বিষয়ে হিলাল উদ্দিন শিপু বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদের আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করেননি। স্কুলজীবন থেকেই অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক নির্দেশনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে রাজনীতিতে আছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের হামলা, হাত ভেঙে দেওয়া, কারাগারে থাকা, একাধিক মামলা এবং কারফিউয়ের মধ্যে রাজপথে থাকা—কোনো কিছুই তাঁকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে সরাতে পারেনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও তাঁরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিলেন।

শিপুর ভাষ্য, সিলেটের রাজপথের সহযোদ্ধা ও তৃণমূলের কর্মীরা তাঁকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও দলের নেতৃত্ব তাঁর অতীতের ত্যাগ বিবেচনা করে দায়িত্ব দিলে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলকে মেধা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের সমন্বয়ে সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায় এবং সিলেটকে জাতীয়তাবাদী শক্তির সংগঠিত ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলাকে তিনি তাঁর লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে সিলেট জেলা ছাত্রদলের তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী হিলাল উদ্দিন শিপুকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চান বলে জানা গেছে। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলজীবন থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ভাঙা হাতে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়গুলোও তাঁরা তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা এবং অতীতে মামলা-হামলার শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের নতুন কমিটিতে মূল্যায়নের বিষয়ে নীতিগত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে হিলাল উদ্দিন শিপুর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০