মায়াহীন নগর
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভাঙা-গড়ার জীবন, হারিয়ে যাওয়া রং, ভালোবাসার শূন্যতা আর নিঃসঙ্গতার শহর—‘মায়াহীন নগর’ কবিতায় কবি শাহেদ সরোওয়ার্দী তুলে ধরেছেন এক ক্লান্ত অথচ আত্মজাগরণের পথচলা। ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে বারবার নিজেকে গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে কবিতাটি হয়ে উঠেছে বিষণ্নতা, হারানো সম্পর্ক ও নতুন করে বেঁচে ওঠার এক আবেগঘন আখ্যান।
আমি ভেঙেছি যতবার, গড়েছি নিজেকে
ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে ফিরেছি আলোতে।
অহর্নিশি ভাঙা-গড়ার এই খেলায়,
কত যে বসন্ত গেল নীরব অবেলায়।
যে চোখে একদিন স্বপ্ন ছিল ভরা,
আজ সেই চোখজুড়ে ধূসর সন্ধ্যাধারা।
যে হৃদয় ভালোবেসে চেয়েছিল জীবন,
সেই হৃদয় আজ শুধু শূন্যতার বন।
পৃথিবীর রংগুলো কোথায় গেল হারিয়ে?
কে নিল নীল আকাশ মেঘের আড়াল দিয়ে?
ফুল আছে, সুবাস নেই; চাঁদ আছে, জোছনা নেই
মানুষের ভিড় আছে, নেই কোনো আপনজন।
প্রেম যেন আজ কেবল পুরোনো উপাখ্যান,
ভালোবাসা ঘুমিয়ে আছে স্মৃতিরই জানালায়।
স্পর্শগুলো মিথ্যে হয়, কথারা হয় ক্ষয়,
কাছের মানুষ দূর হয়ে যায়—নীরব পরিচয়।
আমি কতবার মরে আবার বেঁচেছি,
নিজেরই ছাই কুড়িয়ে নিজেকেই এঁকেছি।
তবু কেন আজ এত ক্লান্ত প্রাণ?
কেন পথের শেষে শুধু শূন্যতার গান?
হয়তো জীবন মানে হারিয়ে ফেলা নয়,
অন্ধকারের বুকেও আলোর জন্ম হয়।
তবু আজ মন বলে—থামুক এই পথচলা,
একটু নীরবতা দাও, একটু নিঃসঙ্গতা।
যদি কোনোদিন আবার রং ফিরে আসে,
যদি কোনো ফুল ফোটে নির্জন বাতাসে,
তবে হয়তো আমিও হাসব একদিন—
মায়াহীন নগরের ভিড়ে হয়ে মায়াবী ঋণ।
ততদিন ভাঙা আমি, গড়ব নিজ হাতে,
অশ্রু লুকিয়ে রাখব নক্ষত্রের রাতে।
কারণ যতবার জীবন ভাঙে নির্মম ক্ষণে—
মানুষ ততবার জন্ম নেয় নিজেরই ভেতরে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে