সর্বশেষ

জাতীয়

গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাইবার আইন করা উদ্দেশ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সংরক্ষণমূলক ধারা রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য তৈরি করা খসড়া বিলটি মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অংশীজন, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনটি যাতে নিবর্তনমূলক আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে খসড়া বিলটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা এবং শিক্ষার্থীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত সংকলন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রোববারের সভাটি ছিল এ বিষয়ে তৃতীয় বৈঠক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে ১০ তারিখের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরবর্তী সভায় অংশীজনেরা তাঁদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে, ওয়েবসাইটে অথবা সভায় জানাবেন। অনেকে সভায় তাঁদের মতামত জানিয়েছেন এবং লিখিত মতামত দেওয়ার কথাও বলেছেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও কিছু সময় নিয়ে মতামত নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। গণমাধ্যম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা এই আইনের কারণে ভুক্তভোগী না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বা সংরক্ষণমূলক ধারা রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আইনটি আরও সমৃদ্ধ হবে। কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, বিশেষ করে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার একটি প্রস্তাব এসেছে। এটিকে উপযুক্ত মনে করা হয়েছে। আরও সুপারিশ এলে সেগুলোও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে বিষয়গুলো অনির্দিষ্টকাল ঝুলে না থাকে, সে জন্য এ ব্যবস্থা রাখা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে অংশীজনদের কাছ থেকে আরও পরামর্শ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুপারিশগুলো সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করবে। সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ প্যানেল গঠন করবে এবং পিআইও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ পাওয়া যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তখনও মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং গ্রহণযোগ্য মতামতগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আইন প্রণয়নের পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিধি অনুযায়ী বিলের খসড়া তৈরি হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সভা হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় তা বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে বিলটি সংসদে যাবে।

তিনি বলেন, সংসদে গেলেও বিলটি তড়িঘড়ি করে পাস করা হবে না। সেখানে আলোচনা হবে এবং বিলটি সংসদীয় কমিটিতে যাবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি আইন করতে চায়, যার মাধ্যমে যুবসমাজসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন অপরাধ করছে এবং তা সমাজে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাদের অপরাধ থেকে বের করে আনতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে হবে। দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে মিল রেখে সাইবার সুরক্ষা আইনটি করা হবে।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০