সর্বশেষ

সারাদেশ

গুইমারায় তিন শহীদকে স্মরণ, রামেসু বাজার হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

আল মামুন, খাগড়াছড়ি
আল মামুন, খাগড়াছড়ি

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
‘গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান’—এই স্লোগান সামনে রেখে খাগড়াছড়ির গুইমারায় শহীদ আক্রই, আথুই ও থৈইচিংয়ের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারা রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা (শহীদ জুনান চাকমার মা), লক্ষীছড়ি ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সুধুঅং মারমা (সাবেক সদস্য, সিন্দুকছড়ি) এবং দূল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।

স্মরণসভা শুরুর আগে একটি চৌকস দল তিন শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করে। পরে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ আথৈইপ্রæর-এর মা নুনুমা মারমা ও শহীদ আখ্র মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে রূপসি চাকমা ও শহীদ রুবেলের মা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এ ছাড়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সংগঠক অংক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে উষাতন চাকমা এবং অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের শিশু-কিশোরেরা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাইরেন বাজিয়ে শহীদদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। স্মরণসভায় অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

বক্তারা শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তাঁরা বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারার রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনায় আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমা নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও অনেকে আহত হন।

বক্তারা বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁদের পথ চলতে হচ্ছে। কোনো অন্যায় ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা হলে আন্দোলন দমনে সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রামেসু বাজারের ঘটনাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা রামেসু বাজারের অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ঘটনার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, খাগড়াছড়ির চিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রামেসু বাজারে নৃশংস ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক বছর পার হলেও এর সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবস উপলক্ষে কনভেনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক উষাতন চাকমা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং কনভেনশনে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের একটি প্রতিবাদী নাট্যকলা পরিবেশিত হয়। এতে শহীদ আক্রই, আথুই ও থৈইচিংয়ের শহীদ হওয়ার ঘটনা উপস্থাপন করা হয়। পরে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের (এসিসি) সদস্যরা সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকায় লাঠিপেটা করে তা আগুনে পুড়িয়ে দেন।

১৬৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০