সর্বশেষ

আইন-আদালত

এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ আবেদনের ওপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার দুপুর ২টা ২২ মিনিটে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পিকারকে অবগত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। এরপর সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ এজাহারে আরও লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।

একটি চিরকুটে লেখা ছিল, “শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।”

আরেকটি চিরকুটে লেখা ছিল, “আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

“আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।”

আরেকটি চিরকুটে দুটি লেখা ছিল। একটিতে লেখা, “সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!!অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!”

অন্য লেখায় ছিল, “কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”

এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

পরে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

এরপর সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল পরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও আদালতের শুনানির পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগোবে।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০