সর্বশেষ

সারাদেশ

পদ্মার চরে নাগরিক সেবাবঞ্চিত চরসাদিপুর

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পদ্মা নদী ও বিস্তীর্ণ চর পেরিয়ে উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে হয় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বালুচরই হয়ে ওঠে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। দুর্বল যোগাযোগের পাশাপাশি ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস, ব্যাংক ও পুলিশ ক্যাম্প না থাকায় মৌলিক নাগরিক সেবা পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রায় ২৪ হাজার মানুষের এই জনপদের বাসিন্দারা।

পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়ন। প্রায় ২৫ বর্গমাইল আয়তনের এই ইউনিয়নের নয়টি গ্রামে বসবাস করেন প্রায় ২৪ হাজার ২৪৭ জন মানুষ। জেলা শহর কুষ্টিয়া থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের এই জনপদের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগে সবচেয়ে বড় বাধা পদ্মা নদী ও বিস্তীর্ণ চর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষাকালে নৌকায় নদী পার হয়ে এবং শুষ্ক মৌসুমে বালুচর পেরিয়ে উপজেলা ও জেলা শহরে যেতে হয়। নদীর তীরে পৌঁছানোর পরও অনেক সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে জরুরি চিকিৎসা, সরকারি দাপ্তরিক কাজ, জমিজমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংকিং ও আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সেবা নিতে তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়।

চরসাদিপুরের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘শহরের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। কোনো বিপদ হলে দ্রুত শহরে পৌঁছানোর মতো ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়েই আমরা আমাদের বেশির ভাগ কার্যক্রম পাবনা জেলার সঙ্গে পরিচালনা করি।’

আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়া শহরে যেতে হলে পদ্মার তীরে এসে অনেক সময় আধা ঘণ্টা থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। নৌকা থেকে নামার পরও গাড়ি পাওয়া যায় না। অনেকটা পথ হেঁটে গিয়ে গাড়ির ব্যবস্থা করতে হয়। সব মিলিয়ে কুষ্টিয়া শহরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় চরসাদিপুর পার্শ্ববর্তী পাবনা জেলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ১৯৯৮ সালে ইউনিয়নটি কুষ্টিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য ইউনিয়নের তুলনায় এখানে প্রয়োজনীয় সরকারি দপ্তর ও নাগরিক সেবার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, ‘আমাদের শুধু নামেই একটি ইউনিয়ন আছে। কিন্তু যথাযথ নাগরিক সেবা নেই। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন রয়েছে, সেখানে চিকিৎসক নেই। সরকার অর্থ ব্যয় করে ভবন নির্মাণ করলেও জনবল না থাকায় সেটি কাজে আসছে না।’

তিনি আরও বলেন, পাবনা জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকায় মাদকের বিস্তার রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কিন্তু ইউনিয়নে কোনো পুলিশ ক্যাম্প নেই। নদী ও চর পেরিয়ে পুলিশকে আসতে হয় বলে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যাংক না থাকায় আর্থিক লেনদেনের জন্যও বাসিন্দাদের অন্যত্র যেতে হয়। একইভাবে ভূমি অফিস না থাকায় জমিজমা-সংক্রান্ত কাজে উপজেলা সদরে যেতে হয় তাদের।

বৃদ্ধ বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানকার যেকোনো দাপ্তরিক কাজের জন্য কুমারখালী অথবা কুষ্টিয়ায় যেতে হয়। কুষ্টিয়া শহরে একটি কাজের জন্য গেলেই পুরো দিন চলে যায়। অনেক সময় এরপরও কাজ শেষ হয় না।’

স্থানীয়দের দাবি, চরসাদিপুরে দ্রুত একটি ভূমি অফিস, পোস্ট অফিস, সরকারি ব্যাংক ও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা ও জেলা শহরের স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চরসাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেছের আলী খাঁন বলেন, ‘আমরা পুলিশ ক্যাম্প দিয়ে কী করব? আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় তহশিল অফিস নেই, পোস্ট অফিসও নেই।’

নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা থাকলেও উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। নাগরিক সেবা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পদ্মার তীরবর্তী এই জনপদে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রয়োজনীয় সরকারি সেবার ঘাটতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, চরসাদিপুরের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অন্য ইউনিয়নের মতো এখানেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।

১১৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০