গোপালগঞ্জে চোর অপবাদে ২ নারীকে মারধর, ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে অবমাননা
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জ শহরের কাপড়পট্টি এলাকায় চোর অপবাদে দুই নারীকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুধু মারধরই নয়, ওই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় সামাজিকভাবে চরম অসম্মানের শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গোপালগঞ্জে চোর অপবাদে দুই নারীকে মারধর করার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় পুরো জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গোপালগঞ্জ শহরের কাপড়পট্টি এলাকার একটি দোকানে কাপড় কিনতে যান দুই তরুণী। সেখানে কাপড় পছন্দ না হওয়ায় তারা দোকান থেকে বের হয়ে আসার পরপরই কয়েকজন দোকানদার ও কর্মচারী তাদের পথরোধ করেন। কোনো কারণ ছাড়াই তাদের চোর অপবাদ দিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগ ধরে টানাটানি শুরু করা হয়।
একপর্যায়ে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ওই দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় জনসম্মুখেই তাদের চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার পর নির্যাতনের সেই ভিডিওটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
নির্যাতনের শিকার এক তরুণী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। কোনো অপরাধ না করা সত্ত্বেও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যাগে জোরপূর্বক কাপড় ঢুকিয়ে দিয়ে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের পারিবারিক জীবন ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে কাপড়পট্টির ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের দাবি, ওই তরুণীরা চুরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাই তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে স্থানীয় সচেতন মহল কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোপালগঞ্জ বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রিটু সিকদার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর চরম সম্মানহানি হয়েছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে