স্থায়ী সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগে 'পাখিমারা' খাল দু'পারের শত শত চাষি
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক সবজি চাষি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে অবহেলিত এই এলাকার কৃষকেরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভাসমান ড্রাম সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখা এই অঞ্চলে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি এখন অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, এই এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য কলাপাড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা পূরণ করে। এখান থেকে প্রতিদিন বাস ও ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ শাকসবজি দেশের বিভিন্ন আড়তে পাঠানো হলেও যাতায়াত ব্যবস্থার বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। গ্রামীণ মাটির পথগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত পাখিমারা খাল পার হওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে একটি পুরনো আয়রন ব্রিজের মালামাল দিয়ে এখানে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হলেও দুই বছরের মাথায় সেটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে তৈরি জরাজীর্ণ ভাসমান সেতু ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় প্রবীণ চাষিরা জানান, দীর্ঘ ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে তারা এই অঞ্চলে চাষাবাদ করছেন। প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হলেও যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাতায়াত সংকটের কারণে সময়মতো ফসল বাজারে নিতে না পারায় প্রায়ই লোকসান গুনতে হয় তাদের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ইতিমধ্যে ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত সেতুর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন মিললেই দ্রুত দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে