সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ার দুই লড়াকু নারী: মাত্র দু'টি গল্প আজ হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া শহরের রেললাইনের দুই প্রান্তে দুই নারীর জীবনযুদ্ধের গল্প আজ হাজারো মানুষের অনুপ্রেরণা। একজন হরিশংকরপুর রেলগেটে শত শত মানুষের জীবন রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী তামান্না ইয়াসমিন; অন্যজন রেললাইনের পাশেই বটি হাতে মাছ কেটে ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্নে বিভোর সংগ্রামী মা ময়না খাতুন।

কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও পথচারী চলাচল করেন। এই ব্যস্ততম রেলগেটে ট্রেনের সময় হলেই তৎপর হয়ে ওঠেন তামান্না ইয়াসমিন। পেশায় তিনি একজন রেলওয়ে গেটকিপার। ট্রেন আসার সংকেত পেলেই দুই পাশের ভারী গেট টেনে বন্ধ করা, বেপরোয়া যানবাহন ও অসতর্ক পথচারীদের থামানোই তার প্রধান কাজ। সামান্য একটু অসতর্কতায় যেখানে ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়, সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এই নারী।

তামান্না ইয়াসমিন জানান, এই কাজে ঝুঁকি অনেক বেশি। ট্রেনের সময় হলে দ্রুত গেট ফেলতে হয়, কিন্তু অনেকেই সিগন্যাল অমান্য করে পার হতে চান। অনেক সময় মানুষকে থামাতে গিয়ে বাজে মন্তব্য ও হুমকির মুখোমুখিও হতে হয় তাকে। তবুও সব ভয় আর বাধা পেরিয়ে যখন একটি ট্রেন নিরাপদে চলে যায়, তখন মনের ভেতর এক অন্যরকম আনন্দ অনুভব করেন তিনি। তামান্না বিশ্বাস করেন, নারীরা এখন বাস, ট্রেন থেকে শুরু করে বিমানও চালাচ্ছেন, তাই কোনো কাজই তাদের জন্য অসম্ভব নয়।

তামান্নার মতো আরেক লড়াকু নারীর দেখা মেলে কুষ্টিয়া পৌর বাজারের রেললাইনের পাশে। তার নাম ময়না খাতুন। তবে তার যুদ্ধটা একটু ভিন্ন। সামনে একটি বটি আর পাশে একটি ছাল নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকেন তিনি। বাজারে আসা ক্রেতাদের মাছ কেটেই চলে তার জীবনসংগ্রাম। মাছ কেটে কুষ্টিয়া শহরের এই মা প্রতিদিন যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে তার একমাত্র সন্তানের পড়ালেখার খরচ ও সংসার।

ময়না খাতুন জানান, তার একমাত্র স্বপ্ন তার ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানাবেন। স্বামী অনেক আগেই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু ময়না হাল ছাড়েননি। কোনো নির্দিষ্ট চাকরি বা স্থায়ী আয় না থাকলেও বটি হাতে মাছ কেটে পাওয়া সামান্য টাকা জমিয়ে তিনি ছেলের মাদ্রাসার খরচ চালাচ্ছেন। কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি—কোনো কিছুই ময়নার এই সংগ্রামকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। সন্তানের ভবিষ্যতের সামনে নিজের সব কষ্টকে হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন এই মা।

কুষ্টিয়ার এই দুই নারীর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে এবং সৎ পথে থেকে কীভাবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচা যায়, তামান্না ও ময়না যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই নীরব অবদান ও ত্যাগ প্রতিদিন হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন