নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রস
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (আইএফআরসি)। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে নেপাল ও তিব্বতে দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ৫৬২ জনে পৌঁছেছে।
হিমালয় অঞ্চলে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো পুরোপুরি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (আইএফআরসি)।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেপানে আইএফআরসির প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, বুধবারের দুর্যোগে আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় সংস্থাটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
ফিশার জানান, ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ায় ত্রাণবাহী যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দপ্তরের প্রধান কমল কিশোরও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, দুর্যোগের প্রভাব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; কিছু এলাকায় সংকট চলমান রয়েছে।
দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতে এ পর্যন্ত ৫৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিব্বতের পাঁচজন রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় ও বিদেশি নাগরিকসহ সহস্রাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ জানিয়েছেন, ভূমিধসে নেপালের ছয়টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকার মরদেহ ভাটির দিকে ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে। নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার বাসিন্দাদের মরদেহ চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি-সহ বিভিন্ন ভাটির জেলায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এসব জেলার হাসপাতাল ও মর্গে মরদেহের চাপ বেড়েছে।
চিতওয়ানে ত্রিশূলি ও নারায়ণি নদীর আশপাশ থেকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবারও সেখানে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিতওয়ান হাসপাতালে অস্থায়ী মর্গ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের স্থায়ী মর্গে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা যায়। নতুন অস্থায়ী মর্গে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গেও জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চিতওয়ানে আসছেন।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা জোরদার করেছে আইএফআরসি। জীবনরক্ষাকারী ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংস্থাটি ২ কোটি ৫০ লাখ সুইস ফ্রাঁর জরুরি তহবিল চেয়েছে। খাদ্য, নিরাপদ পানি, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে