সর্বশেষ

জাতীয়

বালু ভরাটে জলাবদ্ধতা, জলসিঁড়ি প্রকল্প নিয়ে ২৪ গ্রামের মানুষের উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় না করেই কৃষিজমি ও বসতভিটায় বালু ভরাট এবং রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের কারণে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে এবং ইচ্ছাখালী খাল ভরাট হওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি ক্রয় না করেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে উচ্ছেদের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন আহ্বায়ক/সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ। এ সময় আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম ও প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে জমি দখল, বালু ভরাট ও স্থানীয় মানুষের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কার প্রতিবাদেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি অংশ দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমানা নির্দেশক নকশা তৈরি করা হয়েছে। ওই নকশার ভিত্তিতে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

কৃষিজমি ও জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের অনেক পরিবার কৃষি ও মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। ধান, শাকসবজি চাষ এবং দেশীয় মাছ আহরণ তাঁদের দীর্ঘদিনের জীবিকার অংশ। বালু ভরাটের কারণে কৃষিজমি ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের জীবিকা সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা। সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানায় জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে বারবার আবেদন করার পরও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ইচ্ছাখালী খাল ভরাটের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা দ্রুত খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।

উচ্ছেদের আশঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ না করেই তাঁদের বসতভিটা উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় বসতবাড়ির চেয়ে উঁচু করে বালু ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, সরকারি অনুমতি, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন ফসলি জমি ও বসতভিটায় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলা হচ্ছে। জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে লাল নিশানা টাঙিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগও করেন তাঁরা।

৯ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, আবাসন প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া প্রকল্পের সীমানা সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে নির্ধারণ, বসতবাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা না নেওয়া এবং বিশেষ প্রয়োজনে রাস্তা নির্মাণ করতে হলে বাড়ির মালিককে ক্ষতিপূরণ ও প্রকল্পে প্লট দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে কোনো পরিবারকে উচ্ছেদ করা যাবে না। একই সঙ্গে বসতবাড়ির চেয়ে উঁচু করে বালু ভরাটের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ করার দাবিও জানান তাঁরা।

দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কায়েতপাড়াসহ পুরো রূপগঞ্জের মানুষকে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেনাবাহিনী সদর দপ্তর এবং ঢাকায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।

১২৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন