আব্বা
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সামনে ছোট আয়না রেখে,
গাল ফুলিয়ে ত্বক টেনে দাড়ি কাটতেন আব্বা।
ছোট বেলায় অবাক হয়ে ভাবতাম,
গাল না কেটে কিভাবে এটা করবো আমি।
তার অগোচরে ক্রিম মেখে
তাকে নকল করে হেসে কুটিকুটি হতাম বাবা-ছেলে।
এখন আমি অন্ধ তীরন্দাজের মতো সেফ করি,
কখনো কখনো তাকে মনে করে,
ফেনা ধুয়ে যায় চোখের জলে।
ক্যারিয়ার থেকে পড়ার ভয়ে,
সাইকেলের রডে নরম কাপড় বেঁধে বসাতো বাবা।
বড় হয়ে আমি তাকে,
গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে গেছি দূরে বেড়াতে।
চোখে-মুখে দেখেছি তাঁর প্রাপ্তির তৃপ্তি,
আর কাছাকাছি থাকার আর্তি।
ফসল কাটা শুন্য মাঠ দেখে বাবাকে মনে পড়ে,
তিনিও দু’হাত ভরে দিয়ে মিলিয়ে গেছেন শুন্যে।
জীবনের পরতে পরতে জমে থাকা এই সব গল্প
কবিতা হয়ে উঠতে চায়, কবিতা কি এতই সহজ!
অথচ কবিতা লেখার বাউন্ডুলে চেষ্টা দেখে,
খুশি হয়েছিলেন আমার নজরুল ভক্ত আব্বা।
টিকটকের এই যুগে আমি ঠিকঠাক নেই,
আমার কিছু ভালো লাগে না।
আমি শুধু ফিরে যাই শৈশবে
আব্বা থাকেন স্পর্শ থেকে দূরের স্বর্গে।
আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
মেঠোপথের দুপাশে কাশফুলের দোলা
সাইকেলে আমি আর বাবা।
("আব্বা" কবিতাটি সম্প্রতি বাবা হারানো সহকর্মী Dewan Shamsur Rakib ভাইকে উৎসর্গকৃত। কবিতাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)
১৩৩ বার পড়া হয়েছে