সর্বশেষ

জাতীয়

জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-শিল্প, প্রভাব পড়ছে খেলাপি ঋণেও: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, জ্বালানি সরবরাহের সংকটের প্রভাব ব্যবসার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ডিসিসিআই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিয়েছে। যারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। কোনো ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করার পরও ব্যাংকের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেলে বিষয়টি সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও বাস্তবে যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে শুধু কাগজে-কলমে ঋণ দেখিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে।

ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তবে অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে। সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। তবে সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকেও এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না। আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগও দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হবে।

আমির খসরু আরও বলেন, আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন