কলকাতার হোটেলে আগুন: সাংবাদিক দম্পতিসহ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে
রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শিশুসন্তানসহ পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। শনিবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্টে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
ভারতের কলকাতায় ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হয়। পরে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত পাঁচজন হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছরের ছেলে শ্বর্ণশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম হোসেন (৬০) এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭)।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ দেশে আনা হয়। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সম্মতিতে কলকাতাতেই সৎকার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত দুইটার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শিশুসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন, সাতক্ষীরার দুজন এবং ঢাকার সাভারের একজন বাংলাদেশি ছিলেন।
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা। তিনি দিলীপ দত্তের ছেলে। দেবাশীষের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্তকে বাড়িতে রেখে গত ৩ আগস্ট স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভারতে যান তিনি। পরে শ্বশুরকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কলকাতায় দুই দিন থাকার পর স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসার জন্য তাঁরা ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে যান। চিকিৎসা শেষে গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উড়োজাহাজে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। এরপর নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ওঠেন। পরদিন রাতেই হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’ ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত ‘আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৯ দিন আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। গত বুধবার (১৯ আগস্ট) তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
শনিবার বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্টে মরদেহ গ্রহণ করতে দেবাশীষ দত্তের ছোট ভাই সনি ও অন্য স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বাবা দিলীপ দত্ত বেনাপোলে আসেননি। তিনি বাড়িতে থেকে দাফনের প্রস্তুতি ও কবর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন।
অন্যদিকে আহমেদ বাবুর মরদেহ গ্রহণ করতে বেনাপোল চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলেই ভাইয়ের মরদেহ নিতে বেনাপোলে এসেছিলেন। শুক্রবার রাত আটটার মধ্যে মরদেহ দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্রসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ভাইয়ের মরদেহ বুঝে পান।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন এবং সাভারের একজন ছিলেন। শনিবার ওই পাঁচজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১২৯ বার পড়া হয়েছে