এবার এশিয়ান টাইগার দিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করবে ট্রাম্প
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশার বিস্তার ঠেকাতে নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব মশার শরীরে রয়েছে ‘ওলবাকিয়া’ নামের প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। তবে ওলবাকিয়াযুক্ত পুরুষ মশার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার মিলন হলে সেই স্ত্রী মশার ডিম থেকে লার্ভা তৈরি হয় না। এতে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক কর্মসূচিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি গ্রাহককে টানা ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি করে ওলবাকিয়াযুক্ত পুরুষ মশা সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব মশা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তাদের ডিম আর ফুটবে না। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের মশার সংখ্যা কমতে থাকবে।
মন্টগোমারির মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দিন বাড়ছে। এতে মশার বংশবিস্তার এবং সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। একই সঙ্গে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রচলিত রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খোঁজার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
এ উদ্যোগে মূল লক্ষ্য এশিয়ান টাইগার মশা। এ প্রজাতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নয়। তবে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়ানোর ক্ষেত্রে এ মশা ভূমিকা রাখতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। মন্টগোমারি জানান, তাঁর কয়েকজন গ্রাহক পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর কীটনাশকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ কারণে তাঁরা রাসায়নিকের পরিবর্তে এই জৈবিক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।
ওলবাকিয়া ব্যবহার করে মশা নিয়ন্ত্রণের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’র আওতায় বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটির বেশি ওলবাকিয়াযুক্ত পুরুষ মশা ছাড়ার কর্মসূচির কথা জানা গেছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহার করে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও কমতে পারে। ফলে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে ওলবাকিয়া-ভিত্তিক পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে