ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ, সাংবাদিকদের মারধরের চেষ্টার অভিযোগ
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনা জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরকারি ছুটির দিনে বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতায় কাজ চলার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় কার্যালয়ের একটি গেট বন্ধ করে তাঁদের ভিডিও ধারণে বাধা, হুমকি এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের ভাষ্য, গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কিছু কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার এবং দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে যান।
সাংবাদিকেরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান। পরে তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় নকলখানায় যান। তাঁদের দাবি, সেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে বালাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যায়।
এ সময় সাংবাদিকেরা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে তিনি জানান, ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহসম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন বলেও সাংবাদিকেরা জানান।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বাশার খান তাঁদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরে কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আচরণ সংযত করতে বলেন।
এদিকে নকলখানার রেকর্ড কিপারের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে এভাবে কাজ করা নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না। সাংবাদিকদের দাবি, রেকর্ড কিপার বিষয়টি অনিয়ম হিসেবে স্বীকার করেন।
জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ চন্দ্র বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও তাঁদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন। সরকারি ছুটির দিনে কার্যালয়ে বালাম নিয়ে কাজ করার বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
১১৯ বার পড়া হয়েছে