থাইল্যান্ডের স্কুলে ভয়াবহ গোলাগুলিতে নিহত ৭
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির একটি স্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর ওই বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনায় গোটা থাইল্যান্ডজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিস্তারিত স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল ১০টার পরপরই ব্যাংককের উপকণ্ঠের বাং কুরাই জেলার দেবসিরিন স্কুলের নোনথাবুরি শাখায় গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলটিতে দৈনন্দিন পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারী ওই স্কুলটিরই ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। সে তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালানোর পর নিজেই আত্মহত্যা করে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আহতদের ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্কুলের বাইরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানান, হামলার সময় তারা একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। অন্য একটি ভবন থেকে তারা মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুলিশ এসে শ্রেণিকক্ষের দরজায় কড়া নেড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানালে তারা বেরিয়ে আসেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভাবতেই পারিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। আমার মনে হয়েছিল হয়তো কেউ আতশবাজি ফোটাচ্ছে অথবা কোনো জিনিসে আঘাত করছে। অনেকগুলো গুলি চলেছিল—ঠাস ঠাস ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর আবার শুরু হলো।’
জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ডেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেটওয়ার্কের অংশ এই স্কুলটি। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এখানে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখকরা রয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি স্কুলেও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের এমন মর্মান্তিক ঘটনা থাইল্যান্ডে সহজে বন্দুক পাওয়ার সুযোগ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
১৪৯ বার পড়া হয়েছে