সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

বার্থরাইট সিটিজেনশিপে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৫৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) সীমিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখার পরও তিনি এ বিষয়ে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আদেশগুলোরও আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। যদিও কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর আলোকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রাখে।

নতুন নির্বাহী আদেশ দুটি ট্রাম্পের আগের উদ্যোগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে দেশটির নাগরিকত্ব লাভের অধিকার পেয়ে থাকে।

নতুন আদেশগুলোর একটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিক বা শত্রু রাষ্ট্রের বাহিনীর সদস্যদের সন্তানরা এই সুবিধার বাইরে থাকেন। নতুন প্রস্তাবে কথিত সন্ত্রাসী, নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুকেও এই ব্যতিক্রমের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

অন্য নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবকে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলতে মূলত সন্তানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে গর্ভবতী নারীদের দেশটিতে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আগের নির্বাহী আদেশের মতো নতুন আদেশগুলোও আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ এবং এটি পুরো বিষয়টিকে ‘প্রহসনে’ পরিণত করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার প্রশাসন এ বিষয়ে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

তবে চলতি বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, ট্রাম্পের ওই উদ্যোগ সংবিধানের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা কার্যকর করা যাবে না।

আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, যদি কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সবার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব দিতে চাইত, তাহলে সংবিধানের ভাষায় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত।

অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নয় সদস্যের বেঞ্চে রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ছয়জন বিচারপতি ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে মত দেন।

সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি ওয়েহলের মতে, ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশগুলোরও আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তার ভাষায়, জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হয়তো তার কট্টর সমর্থকদের কাছে রাজনৈতিক বার্তা দিতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছেন। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে ইতোমধ্যে সাংবিধানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।

১৫৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন