প্রতিটি বিভাগে হবে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অভিনথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর)-এর ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণার ভূমিকা।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমানে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল রয়েছে। দেশের বিশাল প্রাণিসম্পদের চিকিৎসা ও রোগমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিভাগে এমন আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃষিশিক্ষা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চাকুরির পরিধি বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মৎস্য বিভাগে ৫০০-র বেশি নতুন পদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট খাতের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি করবে।
নিরাপদ খাদ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিকভাবে এখন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ যে পশু বা পাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে, তা সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য দেশের ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
সম্মেলনে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এবং বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মাঈনুদ্দিনকে বার্ষিক সেরা বক্তা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মেলন শেষে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) পরিদর্শন করেন। সেখানে চলমান বিভিন্ন গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীদের মাঝে উন্নত জাতের মাছের জার্মপ্লাজম বিতরণ করেন তিনি।
১২২ বার পড়া হয়েছে