তনু হত্যার আসামি হাফিজুরের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘন্টায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তনু হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন স্থগিত করে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, হাফিজুর রহমানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। ওই আদেশের পর ৪ আগস্ট তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আবেদন করে। সম্পূরক কার্যতালিকায় থাকা ওই আবেদন বিশেষ অনুমতি নিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত জামিন স্থগিতের আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপাতত কার্যকর থাকবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এবং ২০২৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান।
১১৮ বার পড়া হয়েছে