রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা: ২০ আগস্ট ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৯:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচন কমিশন দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ করেন।
ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়ন যাচাই শেষে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের নামসংবলিত ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়। ইসি সচিব জানান, কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকা গ্রহণ করেছে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন। সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সাধারণত ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীই নির্বাচিত হন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা কমে। তবে এ প্রস্তাব কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন এখনো সম্পন্ন হয়নি। একই কারণে সংসদের উচ্চকক্ষও এখনো গঠিত হয়নি।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও জুলাই জাতীয় সনদে কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য বিদ্যমান।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে