সিলেটে শিশু হত্যা মামলায় জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ২
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটে চার বছর বয়সী শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মামলার অপর দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এ রায় দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর জানান, দ্রুততম সময়ে মামলার বিচার শেষ করে আদালত রায় দিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের বিচারপ্রক্রিয়া মানুষের মধ্যে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়াবে।
তবে দুই আসামি খালাস পাওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন নিহত শিশু ফাহিমার পরিবার। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, খালাস পাওয়া দুই ব্যক্তি মরদেহ গোপন করার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা জাকির হোসেন প্রতিবেশী চার বছর বয়সী শিশুকে সিগারেট আনতে দোকানে পাঠায়। শিশুটি ফিরে এলে তাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার অভিযোগ ওঠে জাকিরের বিরুদ্ধে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর শিশুটির মরদেহ দুই দিন একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে রাতের বেলা বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। ৮ মে জালালাবাদ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্তে জাকিরের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তার বাড়িতে দুই দফা হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ঘটনার ৩৩ দিনের মধ্যে পুলিশ জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ এবং জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে মরদেহ গোপনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
গত ১ জুলাই মামলার বিচার শুরু হয়। এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
১২২ বার পড়া হয়েছে