সর্বশেষ

সাহিত্য

বৃষ্টিফুল

লিটন আব্বাস
লিটন আব্বাস

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৩:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শ্রাবণে চাতক পাখির বুক ফুটো করে
যে মেঘ নেমেছিল শহরের রাজপথে;
সেখানে আজ কোনো ঘাস গজায়নি...!
লিটন আব্বাস

রাজপথের পিচ গলে যে লাল নদী তৈরি হয়েছিল;
তা এখন শুকনো, কালচে এক মানচিত্র।
সেই মানচিত্রের ওপর বিছানো মখমলের কার্পেটে
যেন জুতোয় কোনো দাগ না লাগে...!

শুধু কড়া ইটের খাঁজে শুকিয়ে গেছে কিছু জমাট কালচে দাগ;
যার ওপর দিয়ে এখন মসৃণ টায়ারের চাকাগুলো
খুব দ্রুত চলে যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনের দিকে!...

সচিবালয়ের করিডোরে
নতুন ফাইলের খসখস শব্দ...!
টেবিলের তলা দিয়ে গলে যাওয়া
খামগুলোর গায়ে;
এখনো লেগে আছে
কাঁচা বারুদের গন্ধ!...
অথচ আঙুলগুলো এত দ্রুত
নোট গোণে
নখের কোণে লেগে থাকা
রক্তের দাগ দেখার
ফুরসত মেলে না...!

কতো মা এখনো বিকেল হলেই
দরজার চৌকাঠে বসে থাকে...!
বাতাসে চাবির রিংয়ের
চেনা আওয়াজ খোঁজে।
তার শূন্য থালায়
রাতের আলো এসে পড়ে;
ঠিক যেমন ভাঙা টিনের চাল চুয়ে
জোছনা এসে পড়েছিল
নিথর যুবকের খোলা চোখে!

... ঠিক একই সময়ে,
কতো বিলাসী ড্রয়িংরুমে
বিপ্লবের সুবাস ছড়ানো
দামি পারফিউম মেখে;
কয়েক জোড়া হাত মেতেছে
উৎসবের হিসেব-নিকেশে...

কারা ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়?
প্রতিটি মৃতদেহের পাশে বসিয়ে দেয় লভ্যাংশের অঙ্ক?!

অথচ কতো জং ধরা সাইকেলের চাকা
এখনো ঘুরছে গলির মোড়ে!
আরোহীরা এখন শুধুই দেয়ালে
সাঁটানো এক চিলতে কাগজ!
বাতাসের ঝাপটায় সেই কাগজ
ছিঁড়ে পড়ে নর্দমায়...!

ওপরের আকাশচুম্বী কাচের দালানে;
সই হওয়া চুক্তির কলম থেকে
ঝরে পড়ে দামি কালি!
পশ্চিমা গন্ধ মাখা বৈঠকখানায়
শুধু ভাগ-বাটোয়ারার গুঞ্জন?!

যারা পিঠ পেতে দিয়েছিল
বুলেটের সামনে;
তাদের নামগুলো ধুলো জমা
ফাইলের নিচে চাপা...!
সেই ফাইলের পাতা ওল্টানোর
প্রতিটি শব্দে;
বেজে ওঠে নতুন করে
কেনা বিলাসবহুল গাড়ির হর্ন!...

একপাশে পড়ে থাকে ছেঁড়া চটি,
খালি টিফিন বক্স;
অন্যপাশে ঝনঝন করে ওঠে
কাচের গ্লাস...!

শুভেচ্ছা বিনিময়ের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়
শত-শত বোবা চিৎকার!...
ইতিহাসের চাকা ঘোরে,
কেবল কুশীলবের পোশাক বদলায়!

রক্তের দাগের উপর দাঁড়িয়ে
অভিনেতারা পকেটে পুরছে পয়সা?!

রান্নাঘর থেকে ভেসে আসে
পোলাওয়ের সুবাস;
যেখানে ত্যাগের ওজনে
তৈরী হয় উৎসবের মেনু!...

টেলিভিশনের পর্দায়
শুধুই ত্যাগের মহিমা;
পেছনের রন্ধনশালায় চলছে
ভোজের মহোৎসব ...

শ্রাবণের বৃষ্টি আসলেই কানামেঘী
যখনতখন উথাল-পাথাল করে
এফোঁড়-ওফোঁড় করে মন...

প্রতিটি ফোটায় বৃষ্টিফুল,
নৈশব্দের হাহাকার ফুল;
অসমাপ্ত বেদনার শ্রাবণ ফুল!
আহা বৃষ্টি ফুল...
ভুল করেও আর না আসো...!
বৃষ্টিফুল...আর না আসো!...

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন