চুয়াডাঙ্গায় শিশুকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগে মা আটক
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পারিবারিক কলহের জেরে ১১ মাস বয়সী মেয়েশিশুর মুখে বিষাক্ত কীটনাশক ঢেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ শিশুটিকে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সোনিয়া খাতুনকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে জীবননগর উপজেলার মৃগমারী গ্রামের ঈদগাহপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিশুটির নাম আনিকা খাতুন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিশুটির বাবা আলামিনের (৩৫) সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রোববার সকালে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আলামিন। এ সময় স্ত্রী সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে মারামারি হয় এবং তাঁরা লাঠি দিয়ে একে অপরকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আলামিন বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ১১ মাস বয়সী মেয়ে আনিকার মুখে ঘরে থাকা ঘাসপোড়া কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয় বলে সোনিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সময় শিশুটির দাদি বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে আহত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আনিকাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আনিকা সেখানে চিকিৎসাধীন।
১১ মাস বয়সী শিশুর মুখে বিষাক্ত পদার্থ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের আপন মা কর্তৃক সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোনিয়া খাতুনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে