সর্বশেষ

সারাদেশ

অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন তাঁরা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন।

অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা অপ্রতিম হত্যায় জড়িত সব ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।

এর আগে রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে অভিযান চালান। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে লাশ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ কোটবাড়ী গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার মা ড. নাহিদা বেগম। শনিবারও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সন্তানই ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও গন্ধমতির মাটিতে অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০