শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠান একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের উদ্যোগ, এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার জন্য যে আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ। এ অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা মতামতের দায় ভারত সরকার নেবে না এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দুই দেশের সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন রণধীর জয়সওয়াল।
এর আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এমন কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তার ভারত সফরের যে আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল, সেটি বহাল রয়েছে। পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। পানিসম্পদ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক ও কারিগরি ব্যবস্থার মাধ্যমে আলোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে কোনো গণমাধ্যম এ ধরনের বক্তব্য প্রচার করলে তা আইনগত নির্দেশনা লঙ্ঘনের মধ্যে পড়বে।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা পর্যন্ত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তা অনুসরণ করতে হবে। কেউ যদি আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে