বাইকের মাইলেজ বাড়াতে ৬টি কাজ
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোটরবাইক চালানোর সময় জ্বালানি খরচ কমিয়ে ভালো মাইলেজ পাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে চালানোর অভ্যাস ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। হঠাৎ গতি বাড়ানো বা ব্রেক করা এড়িয়ে চলা, টায়ারে সঠিক চাপ রাখা, সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখলেই বাইকের জ্বালানি সাশ্রয় বাড়ানো সম্ভব।
মোটরবাইক থেকে প্রত্যাশিত মাইলেজ না পাওয়ার পেছনে শুধু ইঞ্জিনের সমস্যা দায়ী নয়। চালানোর ধরন, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত ওজন এবং জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টের মানও এর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নিয়মিত বাইকের যত্ন নেওয়া জরুরি।
১. স্বাভাবিক গতিতে বাইক চালান
হঠাৎ গতি বাড়ানো এবং আকস্মিক ব্রেক করার অভ্যাস জ্বালানি খরচ বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং সামনে থাকা যানবাহন ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বুঝে আগেভাগে গতি কমানো ভালো।
সম্ভব হলে একই ধরনের স্থির গতিতে বাইক চালানোর চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনে বারবার গিয়ার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম থাকে। দীর্ঘ সময় নিচু গিয়ারে চালানোর বদলে ইঞ্জিনের উপযোগী সময়ে উঁচু গিয়ারে যাওয়া যেতে পারে।
ঢালু রাস্তায় বা থামার আগে অপ্রয়োজনে থ্রোটল বাড়ানোর পরিবর্তে গতি ধীরে কমিয়ে আনা জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে।
২. নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল ও যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করুন
বাইকের ইঞ্জিন ভালো রাখতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা জরুরি। সঠিক মানের ও নির্মাতার পরামর্শ অনুযায়ী অয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিন মসৃণভাবে কাজ করতে পারে।
এর পাশাপাশি এয়ার ফিল্টার ও স্পার্ক প্লাগের অবস্থাও নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। এয়ার ফিল্টারে অতিরিক্ত ময়লা জমলে বাতাস চলাচলে সমস্যা হতে পারে। আবার পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ স্পার্ক প্লাগ ইঞ্জিনের দহন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. টায়ারে সঠিক চাপ রাখুন
টায়ারে প্রয়োজনের তুলনায় কম বাতাস থাকলে রাস্তায় ঘর্ষণ বেড়ে যায়। এতে বাইকের ইঞ্জিনকে তুলনামূলক বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে।
তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করা উচিত। বাইকের প্রস্তুতকারক যে মাত্রা নির্ধারণ করেছে, সেই অনুযায়ী সামনের ও পেছনের টায়ারে বাতাস রাখা ভালো।
৪. অপ্রয়োজনীয় ওজন কমান
বাইকে অতিরিক্ত ওজন বহন করলে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিনের যাত্রায় প্রয়োজন নেই—এমন ভারী জিনিসপত্র বা অতিরিক্ত আনুষঙ্গিক সরিয়ে রাখা ভালো।
নতুন বাইক কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী হালকা ওজনের মডেলও বিবেচনা করা যেতে পারে।
৫. মানসম্মত জ্বালানি ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন
বাইকের ইঞ্জিনের কার্যকারিতায় জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টের মান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি নেওয়া এবং বাইকের প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল ও অন্যান্য লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করা উচিত।
সঠিক ধরনের লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশের ঘর্ষণ কমাতে এবং স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৬. দীর্ঘক্ষণ থামলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখুন এবং সার্ভিসিং করুন
সিগন্যাল বা যানজটে কয়েক মুহূর্তের জন্য থামলে প্রতিবার ইঞ্জিন বন্ধ করা প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে, নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা জ্বালানি অপচয় কমাতে পারে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত সার্ভিসিং করানো জরুরি। ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। নির্মাতার নির্ধারিত সার্ভিস সূচি মেনে চললে বাইকের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, বাইকের মাইলেজ বাড়ানোর জন্য কোনো একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর না করে চালানোর অভ্যাস ও রক্ষণাবেক্ষণ—দুই দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত যত্ন এবং সচেতনভাবে বাইক চালানোর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে