সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলেই নজরুলের ব্যবস্থা: ইসি সচিব
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দুই মাস আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কিছু করার সুযোগ নেই।
সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রথমে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।
পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজ ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এরপর সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল পরে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল। তবে আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদের জানানোর বিধান রয়েছে। এখনও চিঠি আসেনি, অপেক্ষা করতে হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। শপথ এবং এর পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার সংসদের।
এর আগে গত ২৩ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, দল কাউকে বহিষ্কার করলেও এ বিষয়ে ইসির কিছু করার সুযোগ নেই। তবে কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়।
তিনি আরও বলেছিলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রেফারেন্স’ বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
সেদিন রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
ওই মামলায় সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
১২২ বার পড়া হয়েছে