সর্বশেষ

জাতীয়

বিশ্ব বাঘ দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, হরিণ শিকার, চোরা শিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের অনুপ্রবেশের মতো নানা কারণে এখনো হুমকির মুখে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঘ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে।
বিশ্ব বাঘ দিবস

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই বন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও এবার তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বাঘ জরিপে ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে বাঘের ঘনত্ব প্রায় ২ দশমিক ১৭টি।

তবে সংখ্যাগত এই অগ্রগতির পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। সুন্দরবন রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘আমরা’র সমন্বয়কারী নুর আলম শেখের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ৯১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি বাঘ পিটিয়ে বা শিকার করে হত্যা করা হয়েছে। ৩০টি বার্ধক্য বা অসুস্থতায় এবং তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরিণ শিকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘের খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় হরিণ শিকারের ফাঁদে বাঘও আটকা পড়ে। পাশাপাশি বনদস্যুদের বিচরণ ও বনাঞ্চলে মানুষের উপস্থিতি বাঘের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক সামিউল হকের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের জন্য ৬০ থেকে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এবং একটি স্ত্রী বাঘের জন্য ২০ থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত নিরাপদ এলাকা প্রয়োজন। তবে পর্যাপ্ত শিকার থাকলে তুলনামূলক ছোট এলাকাতেও বাঘ টিকে থাকতে পারে। সে কারণে হরিণ শিকার বন্ধ করা বাঘ সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, চোরা শিকার ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শিকারিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ক্যামেরা ট্র্যাপ ও রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘের চলাচল নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লা হারুনের মতে, সুন্দরবনে মানুষের অনুপ্রবেশ বাড়ার ফলে বাঘের প্রজনন ও নিরাপদ বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। তাই বাঘের আবাসস্থল সুরক্ষায় বনাঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, হরিণ পাচার রোধে বন বিভাগ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩৫ জন সন্দেহভাজন হরিণ পাচারকারীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামও জানিয়েছেন, সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। কয়েকটি বনদস্যু দল ইতোমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে। পাশাপাশি আহত বাঘ উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে পুনরায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করার মতো কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘ রক্ষা মানেই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা। তাই বন সংরক্ষণ, হরিণ শিকার বন্ধ, চোরা শিকার দমন এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমানোর মাধ্যমে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন