সর্বশেষ

সারাদেশ

মিজোরাম থেকে দুই বছর পর ফিরলেন বম সম্প্রদায়ের ১৮ জন

মো.আরিফ, বান্দরবান 
মো.আরিফ, বান্দরবান 

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার নিজ পাড়ায় ফিরেছেন বম সম্প্রদায়ের তিন পরিবারের ১৮ সদস্য। গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

দুই বছর পর স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসা তিন পরিবারের মধ্যে দুটির বাড়ি থানচি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকর পাড়ায়। এ দুই পরিবারের সদস্য ১৫ জন। অপর পরিবারের তিন সদস্যের বাড়ি একই ওয়ার্ডের প্রাতা পাড়ায়। ফিরে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু ও কিশোরও রয়েছে।

তিন পরিবারের প্রধান হলেন ভানরৌখম বম (২৭), রুয়াতখুপ বম (৪৬) ও লালচম বম (৫৫)।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২২-২৩ সাল থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতকে কেন্দ্র করে থানচি ও আশপাশের এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়। পরে ২০২৪ সালে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেন।

দীর্ঘদিন মিজোরামে অবস্থান করলেও নিজ গ্রাম ও স্বজনদের কথা তাঁদের মনে পড়ত বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা পরিবারের সদস্যরা। দেশে ফেরার সুযোগ পেয়ে তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

ভানরৌখম বম বলেন, মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য দেশে থাকলে কখনোই নিজের বাড়ির মতো মনে হয় না। এত দিন পর নিজের গ্রামে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত। নিজের মাটি ও মানুষের কাছে ফিরে আসাটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ বলে জানান তিনি।

রুয়াতখুপ বম বলেন, বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন ও নিজের পাড়ার কথা সব সময় মনে পড়ত। মিজোরামে থাকলেও মন পড়ে থাকত স্বদেশে। অনেক দিন পর নিজের জায়গায় ফিরতে পেরে ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।

লালচম বম বলেন, স্বদেশ ও মাতৃভূমি ছেড়ে থাকা খুব কষ্টের ছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এত বছর পার করেছেন। এখন নিজ পাড়ায় ফিরে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চান তিনি।

পরিবারগুলোর সদস্যদের ভাষ্য, চলতি বছর বম সোশাল কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মিজোরামে অবস্থানরত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপদে দেশে ফেরার বিষয়ে জানানো হয়। বম সমাজের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে আস্থা তৈরি হলে তাঁরা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর মিজোরাম থেকে হরিণা ও রাঙামাটি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তাঁরা। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাঙামাটি থেকে তাঁদের বাকলাইপাড়া সাব-জোন ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে সেনাসদস্যরা তাঁদের স্বাগত জানান। পরে তাঁদের নিজ নিজ পাড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর পরিবারগুলো স্বদেশে ফিরে স্বস্তি পেয়েছে। শিশুদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর শিশুরা যেন নতুন করে নিজেদের দেশকে আবিষ্কার করেছে।

দেশে ফেরার পর তিন পরিবারকে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন সাফকাত মুবাররাত চৌধুরী প্রতিটি পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল, ১০ কেজি ডাল, ৫ লিটার তেল, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ কেজি আলু ও ৫ কেজি লবণ দেন।

এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, বালতি, মগ, পাতিল, প্লেট ও গ্লাসসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পরিবারের শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন।

তিন পরিবারের দেশে ফেরার সময় শেরকর পাড়ার কারবারি তুমথন বম ও প্রাতা পাড়ার কারবারি পার্কেল বম উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে এখন নিজ পাড়ায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে চান পরিবারগুলোর সদস্যরা। স্থানীয়রা তাঁদের প্রত্যাবর্তনকে শেকড়ের টান এবং স্বদেশে শান্তিতে বসবাসের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

১১০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০