মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর হামলার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে জিডির আবেদন
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন বিদ্যুৎ কুমার দত্ত নামের এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর রাতের দিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য তাঁর ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ হিসেবে বিষয়টি নথিভুক্ত করার আবেদন করেছেন তিনি।
অভিযোগে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত বলেন, গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী শিউলি রাণী রায়কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে কুষ্টিয়ার খোকসায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে সাভার গলফ ক্লাবের কাছে তাঁদের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাঁদের প্রথমে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় পরে তাঁদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ওই ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেল, ব্যাগ ও হেলমেট নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ কুমার দত্তের দাবি, দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুতে আঘাত লাগে এবং শরীর ও বাঁ হাতের বিভিন্ন স্থানের চামড়া ছিলে গিয়ে জখম হয়। তাঁর স্ত্রী শিউলি রাণী রায়ের মাথার ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চোখ ও কপালেও আঘাত পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের দুজনকেই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ কুমার দত্তকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পায়ে ব্যান্ডেজ করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর স্ত্রীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়।
বিদ্যুৎ কুমার দত্তের অভিযোগ, চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্ট্রেচারে রাখা হয়েছিল। এ সময় রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর শ্বশুর নিরোদ রায়, শাশুড়ি স্বপ্না রায়, শ্যালক শুভ ও মামা শ্বশুর সেখানে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান এবং মারধর করেন। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতালে উপস্থিত আনসার সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারী আরও বলেন, দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে হওয়ায় তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার কাগজপত্র ও এক্স-রে ফিল্ম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছেন এবং তাঁর পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অসুস্থতা ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কারণে লিখিত অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে যাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও হুমকির কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
১২৮ বার পড়া হয়েছে