মুলাদীতে নদীভাঙন ও পানি বৃদ্ধি: বসতভিটা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে মানুষ
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীভাঙন ও বন্যার পানি বৃদ্ধিতে জনজীবন ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসন এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
বরিশালের নদীবেষ্টিত মুলাদী উপজেলার চরকালেখা, সফিপুর, নাজিরপুর, বাটামারা ও কাজিরচর ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর স্রোত আরও প্রবল হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অব্যাহত ভাঙনে বহু পরিবারের বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন ফলদ-বনজ গাছ নদীতে হারিয়ে গেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে এসব পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, বন্যার পানি বৃদ্ধির পর নদীর ভাঙন আগের তুলনায় অনেক দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
নাজিরপুর এলাকার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই সহায়তা তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় এটি যথেষ্ট নয়। তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ, নিরাপদ পুনর্বাসন এবং টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. নুরুল হক খান বলেন, নদীভাঙনের কারণে বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকার প্রধান উৎস হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জনপ্রতিনিধি ও সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানিয়ে বলেন, তারা শুধু ত্রাণ নয়, নিরাপদভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা চান। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুলাদীর নদীতীরবর্তী জনপদকে রক্ষা করা হবে।
এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধ, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে