কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই গাইবান্ধা শহরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে জনগণ
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধা পৌর শহরে অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সকালের কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির পর গাইবান্ধা পৌর শহরের একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শহরের খাঁপাড়ায় অবস্থিত গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন) সড়ক, কাঁচারী বাজারের চুড়িপট্টি, সঁচীন চাকী সড়ক, মধ্যপাড়া স্কুল রোড এবং ভিএইডি রোডে কে.এন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় এমন পানিতে চলাচল করায় চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগলেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও গাইবান্ধা শহরে প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ড্রেন না থাকায়, আবার কোথাও অপরিষ্কার ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এর ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যমান ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে