পঞ্চদশ সংশোধনী
আপিলে বহাল হাইকোর্টের রায়, ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হলো। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি অংশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দেন। ফলে উচ্চ আদালতের আগের রায় বহাল থাকে।
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। এর অর্থ হলো, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসার সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল এবং ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বিষয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে। আদালত পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিল করেননি; বরং যেসব বিষয় নিয়ে হাইকোর্ট সংসদের বিবেচনার সুযোগ রেখেছিলেন, সেগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এর আগে টানা তিন দিনের শুনানি শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
মামলার পটভূমিতে দেখা যায়, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন। একই রায়ে গণভোটের বিধানও পুনর্বহাল করা হয়। তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, গণতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া সেই গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না। আদালতের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো বাতিলযোগ্য। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করার যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, সেটিও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় মোট ৫৪টি সংযোজন, সংশোধন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল। পরে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের দেওয়া রায় এখন আপিল বিভাগেও বহাল থাকল।
১২৫ বার পড়া হয়েছে