দৌলতপুরে বিষাক্ত পার্থেনিয়ামের আগ্রাসন: ঝুঁকিতে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়ামের দ্রুত বিস্তারে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি, রাস্তার ধার ও পতিত জমিতে ছড়িয়ে পড়া এই ক্ষতিকর উদ্ভিদটি স্থানীয় কৃষি, গবাদিপশু ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই বিষাক্ত এই আগাছার প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা এই আক্রমণাত্মক উদ্ভিদটি মাত্র তিন থেকে চার মাসের জীবনচক্রেই বিপুল পরিমাণ বীজ উৎপাদন করে চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে দিন দিন এর বিস্তার অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।
মাঠপর্যায়ে কর্মরত কৃষকেরা জানিয়েছেন, ফসলি জমির সীমানায় পার্থেনিয়াম ছড়িয়ে পড়ায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় গবাদিপশুর খাবারের সাথে এই বিষাক্ত পাতা মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া, জমিতে কাজ করার সময় এই আগাছার স্পর্শে এসে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ, চুলকানি ও অ্যালার্জির শিকার হচ্ছেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, পার্থেনিয়ামের পরাগরেণু ও পাতা মানুষের ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। এটি মানবদেহে অ্যালার্জি, হাঁপানি, চোখে জ্বালাপোড়া ও চর্মরোগের মতো জটিল সমস্যা তৈরি করে। তাই আক্রান্ত এলাকায় কাজ করার সময় সুরক্ষামূলক পোশাক ও মাস্ক পরা জরুরি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, এই আগাছা দুগ্ধবতী গাভির ক্ষেত্রে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষাক্ত এই উদ্ভিদটি মাটির উর্বরতা গ্রাস করে ফসলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। তবে এখনো এটি দমনের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকরী রাসায়নিক কীটনাশক বাজারে মেলেনি।
পরিবেশ ও উদ্ভিদবিদদের মতে, ফুল ফোটার আগেই এই গাছটিকে শিকড়সহ উপড়ে মাটির নিচে পুতে ফেলাই দমনের একমাত্র কার্যকর উপায়। এই মারাত্মক আগ্রাসী আগাছা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে