সীতাকুণ্ডে ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যা:৪ মাসেই রায়, বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নেসা ইরা মনিকে হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের মাত্র চার মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধারায় তাকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯ ধারায় আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নিহত জান্নাতুল নেসা ইরা মনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটমচালক। ইরা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সকালে চকলেট কিনে দেওয়ার ও ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান পাশের বাসার ভাড়াটিয়া বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ড এলাকায় গিয়ে তারা পাহাড়ি পথে বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন বাবু শেখ। ইরা বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার আশঙ্কায় তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে পাহাড়ে সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা গুরুতর আহত অবস্থায় ইরা মনিকে দেখতে পান। সেখান থেকে তাকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিনগুলোতে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ইরার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ৩ মার্চ, সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৮ জুন অভিযোগ গঠন শেষে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মাত্র ছয় কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩০ জুন আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং ২ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালত আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে