চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে অভিভাবক ঢুকে প্রধান শিক্ষককে চড়
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৭:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, আর ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামস উর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসে থাকা প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে উপস্থিত শিক্ষক ও অন্যরা তাঁকে সরিয়ে দেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত অভিভাবকের মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সমাবেশ চলাকালে সহপাঠীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তাকে শাসন করা হয়। প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন, শাসনের অংশ হিসেবে তিনি শিশুটিকে একটি হালকা চড় দিয়েছিলেন।
অভিযুক্ত অভিভাবকের স্ত্রী মিতালী খাতুন বলেন, তাঁদের মেয়েকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁর স্বামী উত্তেজিত হয়ে শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। একই সঙ্গে শিশুকে মারধরের অভিযোগে তাঁরা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী শাসনও করতে হয়। তবে এ কারণে কোনো অভিভাবক বিদ্যালয়ে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা করবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। ঘটনার পর তিনি বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কার কথাও জানান।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোয়াইব হোসেন বলেন, শিক্ষকদের প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১১৪ বার পড়া হয়েছে