চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষিকাকে চড় মারার অভিযোগ, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকাকে অফিস কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে এবং প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে তাঁর অফিস কক্ষে ঢুকে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা অভিযুক্তকে সেখান থেকে বাইরে নিয়ে যান।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পাশের ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামস উর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
জানা যায়, অভিযুক্তের মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষার্থীটির গালে একটি চড় দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযুক্তের স্ত্রী মিতালী খাতুন বলেন, তাঁদের মেয়েকে প্রধান শিক্ষিকা মারধর করেছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর স্বামী ক্ষোভের বশে শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এ ঘটনায় তারা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন হলে শাসন করতে হয়। তবে এ ঘটনার পর তিনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছেন এবং ভবিষ্যতে আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সোয়াইব হোসেন বলেন, কোনো অভিভাবকের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শিক্ষকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হতে পারে এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিদ্যালয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টিও জানা যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক সমাজে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১২১ বার পড়া হয়েছে