কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী ফল উৎসব ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন, পরিবেশ সচেতনতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
‘সবুজ পরিবেশ আগামীর নিশ্চয়তা’ স্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী দেশীয় ফল উৎসব, ফুল ও ফলজ-বনজ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
কুষ্টিয়ার রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বুধবার সকালে তিন দিনব্যাপী দেশীয় ফল উৎসব, ফুল এবং ফলজ-বনজ বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নওয়াব আলী এবং ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুল গফ্ফার।
উদ্বোধনের পর অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশীয় নানা ফল, ফুল এবং বনজ ও ফলজ গাছের চারা প্রদর্শন করেন। প্রদর্শিত ফলের মধ্যে ছিল কাঁঠাল, আম, লিচু, পেয়ারা, করমচা, বিটসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল। পাশাপাশি জবা, গোলাপ, গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুল এবং বনজ বৃক্ষের চারাও প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
মেলায় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পছন্দের গাছের চারা কিনে বাড়িতে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফল সম্পর্কে পরিচিত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নওয়াব আলী বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোর একটি। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সচেতনতা আরও বিস্তৃত হবে।
বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তনুশ্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন আয়োজন তাকে আনন্দিত করেছে। তিনি মেলা থেকে একটি জবা ফুলের চারা কিনেছেন। তার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা সংগ্রহ করেছেন।
আয়োজকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দেশীয় ফলের সংরক্ষণ ও পরিচিতি বাড়াতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
১৩০ বার পড়া হয়েছে