নজরুল কেবল অতীত নন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ইতিহাসের অংশ নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি বলেন, অন্যায়, বৈষম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। একই সঙ্গে সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ভার্চুয়ালি আয়োজিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্র ও সমাজে এমন কিছু ক্ষণজন্মা মানুষ জন্ম নেন, যাঁরা সমাজ, রাষ্ট্র, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানুষের চিন্তাজগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যান। কাজী নজরুল ইসলাম তেমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে অনুভূত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নজরুলের সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল শক্তিশালী প্রতিবাদের প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষের সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমান সময়েও তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে পারে।
সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ ঘোষণার সম্ভাব্যতাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে নজরুলের সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বিশেষভাবে শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কবিতাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের মন’। সাম্য, মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির যে আদর্শ নজরুল তুলে ধরেছেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সরকারও সেই চেতনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন সফল করতে নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে নজরুল গবেষক, শিল্পী ও অনুরাগীদের অংশগ্রহণ বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও নজরুলসংগীত শিল্পীরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
১২০ বার পড়া হয়েছে