১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় রাঙামাটির আসামবস্তি সেতুর আয়ু বাড়ল ৩০ বছর, সরকারের সাশ্রয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ৩:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ আসামবস্তি সেতুটি আধুনিক ‘রেট্রোফিটিং’ প্রযুক্তিতে সংস্কার করে ঝুঁকিমুক্ত করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া এই সংস্কারকাজের ফলে সেতুটির স্থায়িত্ব আরও ৩০ থেকে ৪০ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে সেতু নির্মাণ করতে হলে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হতো।
নির্মাণের প্রায় ২০ বছর পর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া রাঙামাটির গুরুত্বপূর্ণ আসামবস্তি সেতুটি আধুনিক রেট্রোফিটিং প্রযুক্তিতে সংস্কার করে নতুন জীবন পেয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি কার্যালয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছে।
এলজিইডি সূত্র জানায়, কাপ্তাই হ্রদের ওপর প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ২০০৬ সালে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। সেতুটি চালুর মাধ্যমে রাঙামাটি সদর ও কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। বর্তমানে এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বহনকারী শত শত যানবাহন চলাচল করে।
দীর্ঘদিনের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং বছরের অধিকাংশ সময় কাপ্তাই হ্রদের পানিতে সেতুর পিলার ডুবে থাকায় পিলারের কংক্রিট ক্ষয় হতে শুরু করে। নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ২০২৩ সালে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন শনাক্ত করে এলজিইডি। পরে বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে রেট্রোফিটিং প্রযুক্তিতে সংস্কারের সুপারিশ দেয়।
এরপর ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ধাপে ধাপে সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা হয়।
রাঙামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ শফি বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন করে সেতুটি নির্মাণ করতে গেলে সরকারের প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হতো। সেখানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব রায় চৌধুরী জানান, সেতুর উঁচু পিলারে কাজ করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বছরের বেশিরভাগ সময় পিলারগুলো কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নিমজ্জিত থাকে। বছরে মাত্র দুই থেকে তিন মাস কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। তাই ওই সময় রাত-দিন কাজ করে সংস্কার শেষ করা হয়েছে।
তিনি জানান, রেট্রোফিটিং প্রযুক্তিতে সেতুর ভার মূল পিলারের ওপর নির্ভরশীল না রেখে অতিরিক্ত লোহার কাঠামো, রড ও কংক্রিটের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে। এতে সেতুর ধারণক্ষমতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের মতে, এই সংস্কারের ফলে আসামবস্তি সেতুর কার্যক্ষমতা আরও ৩০ থেকে ৪০ বছর বজায় থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সংস্কার শেষ হওয়ায় এখন তারা স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারছেন। একই সঙ্গে কাপ্তাই ও রাঙামাটি সদরের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিরাপদ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ও পর্যটন খাতও উপকৃত হবে বলে তারা আশা করছেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে