ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ৯:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতনের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে সেতু দিয়ে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতুর ওপর আটকে পড়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়। এতে সেতুর দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত মেরামত এবং নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় স্টিলের পাটাতনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি সেতুর ওপর আটকে পড়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে সেতুর উভয় প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটির বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। কোথাও কোথাও লোহার প্লেট খুলে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে আসছিল।
ঐতিহাসিক এই সেতুটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয়। প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। পরে স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এটি সংস্কার করে সড়ক যোগাযোগের উপযোগী করা হয়।
নির্মাণের সময় সেতুটির আয়ুষ্কাল ১০০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসেবে প্রায় চার দশক আগে এর নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া সেতুটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সরু যে, একসঙ্গে দুটি বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রায়ই উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায়ই সেতুর পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ভারী যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সেতুটির দক্ষিণ পাশে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। এতে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব সেতু দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
১১১ বার পড়া হয়েছে